কলকাতা হাইকোর্টে বড় ধাক্কা খেলেন ক্রিকেটার মহম্মদ শামি, স্ত্রী ও মেয়ের জন্য মাসিক ৪ লক্ষ টাকা ভরণপোষণের নির্দেশ
ভারতীয় ক্রিকেট তারকা মহম্মদ শামি তাঁর প্রাক্তন স্ত্রী হাসিন জাহান এবং একমাত্র মেয়ের ভরণপোষণ বাবদ বড় ধাক্কা খেলেন কলকাতা হাইকোর্টে। নিম্ন আদালতের রায় বাতিল করে হাইকোর্ট শামিকে প্রতি মাসে ৪ লক্ষ টাকা করে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। এর মধ্যে ২ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা মেয়ের জন্য এবং বাকি ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা হাসিন জাহানের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে। বিচারপতি অজয় মুখোপাধ্যায় মঙ্গলবার এই নির্দেশ দিয়েছেন।
এই মামলায় হাসিন জাহানের হয়ে লড়েছেন আইনজীবী ইমতিয়াজ আহমেদ। আদালতের এই রায় হাসিন জাহানের পক্ষে একটি বড় জয়, যার পেছনে আইনজীবী ইমতিয়াজ আহমেদ-এর নিরলস প্রচেষ্টাই মূল চালিকা শক্তি। হাসিন জাহানের আইনজীবী ইমতিয়াজ আহমেদ আদালতে জোরালো সওয়াল করেন যে, হাসিনের মাসিক আয় মাত্র ১৬ হাজার টাকা, যা ব্যাঙ্ক ফিক্সড ডিপোজিট থেকে সুদ বাবদ আসে এবং এই টাকায় তাঁর ও তাঁর মেয়ের জীবনযাপন সম্ভব নয়। তিনি আরও যুক্তি দেন যে, মহম্মদ শামির ২০২০-২১ অর্থবর্ষের আয়কর রিটার্ন অনুযায়ী তাঁর আয় ছিল ৭.১৯ কোটি টাকা, যা তার সামর্থ্য প্রমাণ করে। ইমতিয়াজ আহমেদ-এর পেশ করা এই তথ্য এবং যুক্তিই বিচারপতির রায়কে প্রভাবিত করেছে।
আদালত জানিয়েছে, ক্রিকেটার মহম্মদ শামির যে পরিমাণ উপার্জন, তাতে হাসিন জাহান এবং তাঁদের মেয়ের মাসিক ৪ লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্য প্রাপ্য। শুধু তাই নয়, ২০১৮ সালে হাসিন যখন ভরণপোষণের দাবি জানিয়ে নিম্ন আদালতে মামলা করেছিলেন, সেই দিন থেকেই মাসিক ৪ লক্ষ টাকা হিসেবে যে অঙ্ক হয়, তা শামিকে মেটাতে হবে। এর বাইরেও মেয়ের যথাযথ পড়াশোনার জন্য যে অর্থ প্রয়োজন, স্বেচ্ছায় শামিকে সেই সাহায্য করতে হবে বলেও জানিয়েছে হাইকোর্ট।
উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে দায়ের করা মামলায় হাসিন জাহান নিজের জন্য মাসিক ৭ লক্ষ এবং মেয়ের জন্য মাসিক ৩ লক্ষ টাকা সাহায্যের দাবি করেছিলেন। কিন্তু নিম্ন আদালত হাসিনকে মাসিক ৫০ হাজার এবং মেয়ের জন্য মাসিক ৮০ হাজার টাকা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। এই রায়কে চ্যালেঞ্জ করেই হাসিন জাহান হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। হাইকোর্টে জমা দেওয়া নথিতে হাসিন জানান, ২০২০-২১ অর্থবর্ষে ৭ কোটি ১৯ লক্ষ টাকা আয়কর রিটার্ন জমা দিয়েছিলেন মহম্মদ শামি। এদিন নির্দেশ দিতে গিয়ে নিম্ন আদালতের রায়ে বিস্ময় প্রকাশ করেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি অজয় মুখোপাধ্যায়। বিচারপতি জানান, ক্রিকেটার শামির যে পরিমাণ আয়, তাতে মাসিক অন্তত ৪ লক্ষ টাকা ভরণপোষণ বাবদ তাঁর স্ত্রী এবং মেয়ের প্রাপ্য। পাশাপাশি ৬০ দিনের মধ্যে মূল মামলার নিষ্পত্তি করার জন্যও নিম্ন আদালতকে নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট।
হাইকোর্ট জানিয়েছে, এই মুহূর্তে শামির স্ত্রী হাসিনের একমাত্র উপার্জনের পথ ব্যাঙ্কে গচ্ছিত টাকা থেকে মাসে ১৬ হাজার টাকা সুদ। শামির সঙ্গে বিচ্ছেদের পর তিনি নতুন করে বিয়ে করেননি। ফলে মেয়ে এবং তাঁর নিজের ভবিষ্যতের জন্য এই পরিমাণ অর্থ হাসিনের প্রাপ্য। মহম্মদ শামির পক্ষ থেকে প্রাক্তন স্ত্রী একজন সফল মডেল ও অভিনেত্রী এবং তাঁর মাসিক আয় অন্তত ৫ লক্ষ টাকা বলে যে দাবি করা হয়েছিল, তা হাইকোর্ট খারিজ করে দিয়েছে।
২০১৪ সালে মডেল এবং অভিনেত্রী হাসিন জাহানের সঙ্গে বিয়ে হয় শামির। ২০১৫ সালে তাঁদের কন্যা সন্তানের জন্ম হয়। কিন্তু তাঁদের দাম্পত্য সুখের হয়নি। ২০১৮ সালে যাদবপুর থানায় শামি এবং তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে গার্হস্থ্য হিংসার অভিযোগ দায়ের করেন জাহান। স্ত্রী নির্যাতন, বিষ খাওয়ানো, খুনের চেষ্টা, ধর্ষণ-সহ একাধিক অভিযোগ করা হয় শামির বিরুদ্ধে। বিবাহ বিচ্ছেদ চেয়ে আদালতেরও দ্বারস্থ হন জাহান। প্রোটেকশন অফ উইমেন ফ্রম ডোমেস্টিক ভায়োলেন্স অ্যাক্ট ২০০৫ অনুযায়ী মামলা দায়ের করেন তিনি। মামলার খরচ এবং অন্তর্বর্তীকালীন ভরণপোষণ বাবদ ১০ লাখ টাকা চেয়েছিলেন। নিজের জন্য মাসে ৭ লাখ এবং মেয়ের জন্য মাসে ৩ লাখ টাকা চেয়েছিলেন। কিন্তু নিম্ন আদালতে তাঁর এই আবেদন গ্রাহ্য হয়নি। আলিপুর আদালত শুধুমাত্র তাঁর সন্তানকে মাসিক ৮০,০০০ টাকা এবং পরে জেলা জজ সেই নির্দেশ সংশোধন করে জাহানকেও মাসে ৫০ হাজার টাকা করে দেওয়ার নির্দেশ দেন। এই নির্দেশের বিরুদ্ধেই হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন হাসিন জাহান। আর এবার আইনজীবী ইমতিয়াজ আহমেদের জোরালো সাওয়াল এবং পুঙ্খানুপুঙ্খ বিচার-বিশ্লেষণ করে হাইকোর্টের এই নির্দেশ দেন যে, টি এবং মেয়েকে মাসিক ৪ লক্ষ টাকা ভরণপোষণ বাবদ দিতে হবে ক্রিকেটার মোহাম্মদ শামীকে। এক কথায় আদালতে বিরাট ধাক্কা খেলেন ক্রিকেটার মোহাম্মদ শামি।





